Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের ২৪ ঘণ্টার সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, মাঠে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ

দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের ২৪ ঘণ্টার সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, মাঠে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ

 

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার এই সফর হলেও চীনা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং বিভিন্ন কর্মসূচিকে নির্বিঘ্ন রাখতে দিল্লি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সফর ঘিরে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কূটনৈতিক এলাকা, বিমানবন্দর ও সম্ভাব্য চলাচলের রুটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিংয়ের সফর উপলক্ষে রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটও সক্রিয় থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমের স্থানগুলোতে অতিরিক্ত তল্লাশি এবং নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সফরের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য আগেভাগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

শি জিনপিংয়ের সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে চীনের শীর্ষ নেতার দিল্লি সফর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সফরের সময় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হতে পারে। ভিভিআইপি চলাচলের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সড়কে যান নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প রুট ব্যবহার এবং সাময়িকভাবে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এতে রাজধানীর স্বাভাবিক যান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

শুধু সড়কপথ নয়, আকাশপথ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফরসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই ও অনুমোদনের বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে।

দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। শীর্ষ পর্যায়ের কোনো বিদেশি নেতার সফরে সাধারণত যে ধরনের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, শি জিনপিংয়ের সফরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আলাদা টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২৪ ঘণ্টার সফর হলেও এর গুরুত্ব বিবেচনায় দিল্লির নিরাপত্তা কাঠামোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানের সফর ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত দিল্লি সফর শুধু নিরাপত্তার দিক থেকেই নয়, দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। সফরে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। ফলে অল্প সময়ের সফর হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট বেশি।