Loading...

  • 26 Jul, 2026

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, রয়টার্সকে জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, রয়টার্সকে জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও নিজ দেশে ফিরে বিচার মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার শিকারও হতে পারেন—এমন আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি অবগত। তবুও নিজের জন্মভূমিতেই শেষ পরিণতি বরণ করতে চান বলে সাক্ষাৎকারে জানান। তার ভাষায়, দলের নেতাকর্মীরা বর্তমানে কঠিন নিপীড়নের মুখে রয়েছেন এবং তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতে দেশে ফিরতে চান।

শেখ হাসিনা বলেন, “যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই হোক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরেছে।” তিনি আরও জানান, দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একযোগে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমান বিচারব্যবস্থার বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ঠিক কোন তারিখে বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে বারবার চিঠি দিলেও তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলেও সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন।

বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ করছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দলের প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। এর মধ্যেও তিনি অনলাইনের মাধ্যমে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দলকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা বা সাজা হতে পারে, এমনকি তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে নাও পারেন। তবে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, যদি আওয়ামী লীগ কোনো ভুল করে থাকে, তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেশের জনগণের, অন্য কারও নয়।

কারাবরণের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতেও তিনি একাধিকবার কারাগারে ছিলেন। আশির দশকে দেশে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালেও তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ফলে জেলে যাওয়ার বিষয়ে তার কোনো ভয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হলেও শেখ হাসিনা বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দুই বছর পর দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানো বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।