জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্ত্রীকে গরম ডাল ছুড়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ওবায়দুল ওরফে ‘ডিজে ওবায়দুলের’ বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী স্ত্রীর অভিযোগ, ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলেও তার মুখের স্বাভাবিক আকৃতি পুরোপুরি ফিরে আসেনি। পরে স্বামী তাকে তালাক দেন। এ ঘটনায় করা নারী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মাদারগঞ্জে ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌরসভার জোনাইল গ্রামে। ভুক্তভোগী রিক্তা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে একই এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে ওবায়দুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
রিক্তা জানান, গত বছর বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তার স্বামীর একটি হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় স্বামীর চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি তার পাশে ছিলেন। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে ওবায়দুল সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সুস্থ হওয়ার পর ওবায়দুল টিকটক ব্যবহার এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জড়িয়ে পড়েন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে রান্না করা গরম ডাল তার মুখে ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন রিক্তা।
চিকিৎসার পরও মুখের স্বাভাবিক আকৃতি ফেরেনি
রিক্তার দাবি, গরম ডালের আঘাতে তার মুখ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নেন। তবে চিকিৎসার পরও মুখের স্বাভাবিক আকৃতি পুরোপুরি ফিরে আসেনি বলে জানান তিনি।
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পরও স্বামীর পক্ষ থেকে তার ওপর নির্যাতন চলতে থাকে। একই সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে অন্য এক নারীর সঙ্গে ওবায়দুলের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে গত সপ্তাহে ওবায়দুল তাকে তালাক দেন।
এরপর স্ত্রী রিক্তা আক্তার মাদারগঞ্জ থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার পর কারাগারে
মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহসীষ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার স্ত্রীর মৃগীরোগ রয়েছে। কাজ করার সময় মৃগীরোগের কারণে তিনি গরম পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হন। স্ত্রীর চিকিৎসার সব খরচ তিনিই বহন করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী স্ত্রী ও অভিযুক্ত স্বামীর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। স্ত্রী যেখানে গরম ডাল ছুড়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, সেখানে ওবায়দুল দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী আহত হয়েছেন বলে দাবি করছেন। ফলে মামলার অভিযোগ ও অভিযুক্তের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে।
মাদারগঞ্জের এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধ, নির্যাতনের অভিযোগ, তালাক এবং পরে করা মামলার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। গরম ডালের আঘাতে মুখ ঝলসে যাওয়ার অভিযোগের পর ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করেছেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত বিষয় পরিষ্কার হওয়ার কথা রয়েছে।