পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয় শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় যান। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার ভেতরে প্রবেশ করলে পুলিশ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, আর অনেকে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে মারধর করা হয়েছে, যার কারণে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই আহত হন। তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে থানায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগৈলঝাড়া থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।