গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাবে জমা রাখা লাখ লাখ টাকা না পেয়ে শতাধিক গ্রাহক চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, শাখার দুই কর্মচারীর যোগসাজশে অন্তত ৪৬ জন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধাপেরহাটের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় জমে। একপর্যায়ে উত্তেজিত গ্রাহকরা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি রেশমা বেগম নামে এক গ্রাহক পাঁচ বছর মেয়াদি এফডিআরের ৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে তাকে জানানো হয়, তার নামে কোনো এফডিআর নেই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও বহু গ্রাহক ব্যাংকে এসে একই ধরনের তথ্য জানতে পারেন। অনেকেই টাকা জমার রসিদ ও এফডিআর সনদ দেখালেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে জাল বা ভুয়া বলে দাবি করে।
শুধু এফডিআর নয়, সঞ্চয়ী হিসাবেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী লাজু মণ্ডল জানান, তার হিসাবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা থাকার কথা থাকলেও খোঁজ নিয়ে দেখেন সেখানে মাত্র ১ হাজার টাকা রয়েছে।
আরেক গ্রাহক হেলাল মণ্ডল বলেন, প্রায় তিন বছর আগে তিনি ৪ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন। কিন্তু ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তার নামে কোনো এফডিআরই খোলা হয়নি।
এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো. ওয়ালিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাখার ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মো. মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে ৪৬ জন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তরা এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মতিউল ইসলাম জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ শর্তে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
এদিকে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটি তদারককারী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পীরগঞ্জ (রংপুর) শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাদিউল ইসলাম বলেন, ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলামের সহযোগিতায় এফডিআর করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভুয়া জমার স্লিপ ও স্ক্যান করা এফডিআর সনদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সন্দেহ এড়াতে তারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের নিয়মিত মুনাফার অর্থও পরিশোধ করেছেন। এছাড়া সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের সময়ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।