জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম রিয়াজ আহমেদ। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জের উত্তর বাহেরচর এলাকায় বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার পর কয়েকজন ছাত্রী টিএসসি সংলগ্ন ওয়াশরুমে যান। এ সময় এক যুবককে ছাত্রীদের ওয়াশরুম এলাকা থেকে সন্দেহজনকভাবে বের হতে দেখে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে শিক্ষার্থীরা তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ছাত্রীদের ওয়াশরুমের দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে ধারণ করা ভিডিও খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রীকে গোপনে ধারণ করা প্রায় ১৪০টি ভিডিও পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে মারধর করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রান্তিক ফটক এলাকায় নিয়ে যান।
পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে পুনরায় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী কয়েকজন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ নিয়ে আশুলিয়া থানায় যান এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
অভিযুক্ত রিয়াজ আহমেদ দাবি করেছেন, তিনি শুধুমাত্র খেলা দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেছিলেন তার এক বন্ধু। তবে ফোনে পাওয়া আগের ভিডিওগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে এর আগেও ক্যাম্পাসে এসে কিছু ভিডিও ধারণ করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।