Loading...

  • 26 Jul, 2026

জিয়া হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মোজাফফর গ্রেপ্তার, নতুন করে আলোচনায় ১৯৮১ সালের সেই রাত

জিয়া হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মোজাফফর গ্রেপ্তার, নতুন করে আলোচনায় ১৯৮১ সালের সেই রাত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মোজাফফর হোসেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের একজন পলাতক আসামি। তবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোন আইনি বা সামরিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গ্রেপ্তারের পর তার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

জিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে মেজর মোজাফফরের নাম উঠে এসেছে। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের Bangladesh: A Legacy of Blood গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। বইটিতে বর্ণিত হয়েছে, সে সময় তিনি দৃশ্যত বিচলিত ছিলেন এবং তার ধারণা ছিল, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, বরং আটক করে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এই বর্ণনা লেখকের উপস্থাপিত বিবরণ; এটি আদালতে যাচাইকৃত সাক্ষ্য নয়।

একই গ্রন্থে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সার্কিট হাউসে ফিরে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও ব্যক্তিগত ডায়েরি খোঁজেন এবং পরে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমেও অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর স্মৃতিকথা এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য গ্রন্থেও মোজাফফরের নাম উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে তিনি পলাতক মেজর মোজাফফর ও মেজর এস. এম. খালেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল জিয়াউর রহমানকে আটক করা, হত্যা করা নয়। তবে এই বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব দাবি; তা আদালতে যাচাই হয়নি।

জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মেজর মোজাফফর ও মেজর এস. এম. খালেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর মোজাফফরের গ্রেপ্তারের ঘটনায় জিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন আবারও আলোচনায় এসেছে। ঘটনার পরিকল্পনা, হত্যার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, হত্যার পরবর্তী কার্যক্রম এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পেছনের সহায়তাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।