জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও আদর্শকে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই গণআন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তাই এই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়। বরং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জুলাইয়ের আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ এবং আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের স্বপ্ন ও চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বিভাজনের রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন এর আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হবে।
তিনি বলেন, "কোনো মহান আদর্শ বা চেতনাকে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। জুলাই চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি। যারা চেতনা ব্যবসা করবে, তাদের পরিণতিও দেশের মানুষ দেখবে।"
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। কোনো দল বা ব্যক্তি যদি এই আন্দোলনের আত্মত্যাগকে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে তা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তার দাবি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তি বিদেশে অবস্থান করে দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা নানা উপায়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন রয়েছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। তবে সেই বিচার হবে দেশের প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই। আইনকে পাশ কাটিয়ে বা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।