Loading...

  • 26 Jul, 2026

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি পুরো জাতির অর্জন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি পুরো জাতির অর্জন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের সব মানুষের যৌথ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই আন্দোলনে মানুষ দল-মত, পরিচয় ও রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাই জুলাই অভ্যুত্থানকে কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই এখন রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতায় তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় একত্রিত হয়েছিল। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। সেই আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে এবং আন্দোলনের চেতনাকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এটি এ দেশের সব মানুষের অর্জন। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের পরিবর্তন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যারা মানুষ হত্যা করেছে বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তবে সেই বিচার হতে হবে সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ। প্রতিশোধ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভিত্তিতে কোনো বিচার করা হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, "স্বৈরাচার বিচারের নামে অবিচার করেছে। আমরা যেন বিচারের নামে কোনো অন্যায় না করি। প্রয়োজনে বিচার সম্পন্ন হতে সময় লাগবে, কিন্তু সেটি অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে এবং ন্যায়বিচারের নীতিমালা অনুসরণ করেই হতে হবে।"

তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতভাবে ভোগ করতে পারবেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

বক্তৃতায় জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভক্ত জাতি কখনো টেকসই উন্নয়ন বা অগ্রগতির পথে এগোতে পারে না। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তার পরিবার এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা নানা ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন। তবুও প্রতিশোধ নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠন ও ঐক্যই হওয়া উচিত ভবিষ্যতের পথ।

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, যদি তিনি তার মাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন— ১৭ বছর ধরে যে অন্যায়, জুলুম ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, তার প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না— তাহলে তার মা নিশ্চয়ই বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

একইভাবে তার প্রয়াত ভাইও একই পরামর্শ দিতেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যাদের সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন, তাদের অনেককে হারিয়েছেন, অনেকে স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন। সেই শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা তিনি নিজেও অনুভব করেন। তবে অতীতের ক্ষোভকে সামনে না রেখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।