Loading...

  • 26 Jul, 2026

জুমার খুতবা ও ইমামতি করে প্রশংসায় ভাসছেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

জুমার খুতবা ও ইমামতি করে প্রশংসায় ভাসছেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় জুমার খুতবা প্রদান ও ইমামতি করে স্থানীয় মুসল্লিদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় অংশগ্রহণ এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিয়ে খুতবা প্রদান করেন তিনি। পরে মুসল্লিদের ইমামতি করে জুমার নামাজ আদায় করান। এ সময় মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

খুতবার শুরুতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন ইউএনও মিজানুর রহমান। তিনি সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

খুতবা শেষে তিনি জুমার নামাজে ইমামতি করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তার পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন সরাসরি ধর্মীয় সম্পৃক্ততা অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, নবাগত ইউএনও অত্যন্ত শিক্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের মতে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সাধারণ মানুষের কাছে এসে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি কুতুবদিয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন তিনি।

এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহায় দীর্ঘদিনের পৃথক পৃথক জামাতের পরিবর্তে স্থানীয় জনগণকে একত্রিত করে ঈদগাহ মাঠে সম্মিলিত ঈদের জামাত আয়োজনের উদ্যোগও নেন তিনি। তার এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক সংহতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।