কারাগারের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে। ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করা এই সাবেক এমপির কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের ফরেনসিক পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কারাগারে প্রভাবশালী বন্দিদের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল। ওই সময় উচ্চনিরাপত্তার ব্যারাকে থাকা প্রজ্বল রেভান্নাকে তার সেলের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তার কক্ষ তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন, চার্জার, পেনড্রাইভ এবং একটি নোটবুক জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনে ডজনখানেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও সংরক্ষিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জব্দ করা পেনড্রাইভেও একাধিক ওয়েব সিরিজের ভিডিও থাকার কথা জানা গেছে। কারাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড বা অনুমোদনহীন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের ওপরও প্রশ্ন উঠেছে।
কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, বন্দীদের বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ও নজরদারির আওতায় থাকা যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অনুমতি নেই। ফলে একজন উচ্চনিরাপত্তার বন্দির কাছে কীভাবে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফোন উদ্ধারের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্বল রেভান্না ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা। জনতা দল (সেক্যুলার)-এর সাবেক এই সংসদ সদস্য বর্তমানে একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এর আগে এক নারীকে ধর্ষণ এবং ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালতের বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নারী ২০২১ সাল থেকে রেভান্নার বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যায়। মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
কারাগারের মতো নিয়ন্ত্রিত স্থানে একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির কাছে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ পাওয়ার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে উচ্চনিরাপত্তার ব্যারাকে থাকা বন্দির কাছ থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কারাগারে বন্দিদের মধ্যে নিয়মের প্রয়োগ কতটা সমানভাবে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারাগারে নিষিদ্ধ ডিভাইস প্রবেশের উৎস এবং এর সঙ্গে কারা কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটি সামনে আসার পর ভারতে কারাগারে প্রভাবশালী বা ভিআইপি বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পুরোনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারের ভেতরে নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং তার কাছে অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস কীভাবে পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।