রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ ও দলীয় সংকটের মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান Mamata Banerjee। তিনি বলেছেন, বয়স নয়, মানুষের মানসিক শক্তিই তার এগিয়ে চলার মূল শক্তি। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভার্চুয়াল বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিজের বয়স নিয়ে বিরোধীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি কখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে মন্তব্য করেননি।
বিজেপির সমালোচনা করে মমতা দাবি করেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন তার মৃত্যু কামনা করা হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজনৈতিক লড়াই শেষ না করে তিনি মাঠ ছাড়বেন না।
দলীয় পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বলেন, যারা দল ছাড়তে চান তারা যেতে পারেন। তবে দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের তিনি নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের মতো কঠিন সময়েও যেভাবে লড়াই করেছেন, প্রয়োজনে আবারও নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলবেন বলেও জানান তিনি।
‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’—এই স্লোগান উচ্চারণ করে মমতা বলেন, তিনি এখনও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না। বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলে দলকে এগিয়ে নিতে চান।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কয়েকজন নেতার দলত্যাগ এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের জেরে দলটি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী শহীদ দিবসকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। এ উপলক্ষে দলটির বিভিন্ন পক্ষ পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কলকাতা হাইকোর্ট শহীদ দিবসের সমাবেশের স্থান নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করে। এবারও দিবসটিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।