Loading...

  • 26 Jul, 2026

‘মা প্রতিশোধ নয়, সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে বলতেন’— আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘মা প্রতিশোধ নয়, সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে বলতেন’— আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত ১৭ বছরে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ টেনে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যদি তার মাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ থাকত যে, দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চালানো অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না, তাহলে তার মা কখনো প্রতিশোধের কথা বলতেন না। বরং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শই দিতেন। একইভাবে তার ছোট ভাইও একই মত দিতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যের পর নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা এবং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে তার পরিবারের ওপর নানা ধরনের অন্যায়, নির্যাতন ও মানসিক চাপ নেমে এসেছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না তিনি। বরং অতীতের বিভাজন ভুলে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গত ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি তার প্রতিশোধ নেব? আমার সেই ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, মা আমাকে বলতেন— প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। আমার ছোট ভাইকেও একই প্রশ্ন করলে সেও মায়ের মতো একই উত্তর দিত।"

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। তাই ব্যক্তিগত কষ্ট বা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার বদলে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভক্ত জাতিকে নিয়ে কখনো উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগোনো সম্ভব নয়। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক মানুষের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তবে সেই মূল্যায়নের অর্থ এই নয় যে, কাউকে বাদ দিয়ে বা বঞ্চিত করে অন্য কাউকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তাই সেই চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিশোধ নয়, বরং সহনশীলতা, সংলাপ এবং আইনের শাসনের পথেই এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্ব করেন। এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মত্যাগের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করা হয়। বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।