Loading...

  • 26 Jul, 2026

মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষায় অভিন্ন বিষয়ে একই প্রশ্নে পরীক্ষা, আসছে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার

মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষায় অভিন্ন বিষয়ে একই প্রশ্নে পরীক্ষা, আসছে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, আধুনিক ও বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্কার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা ধারার যেসব বিষয় অভিন্ন রয়েছে, সেসব বিষয়ে ভবিষ্যতে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে দুই ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমবে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আরও সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সংস্কার, শিক্ষক নিয়োগ, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানসহ বেশ কয়েকটি বিষয় একই ধরনের পাঠ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে। এসব বিষয়ে পৃথক প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা সহজ হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যে ধারার শিক্ষায় অধ্যয়ন করুক না কেন, তাদের দক্ষতা, জ্ঞান ও যোগ্যতা মূল্যায়নে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কারণে পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষাব্যবস্থায় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে সংযুক্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই সময়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হবে এবং বোর্ডভিত্তিক বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।

শিক্ষা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে রয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এ নিয়োগ কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। এর ফলে শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমবে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের কিছু প্রকল্পগত সীমাবদ্ধতার কারণে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে এবং দ্রুতই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সরকার শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল চর্চাকে সমানভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, একটি দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে কেবল একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

**ট্যাগ:**
শিক্ষামন্ত্রী, এহসানুল হক মিলন, মাদ্রাসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, অভিন্ন প্রশ্নপত্র, শিক্ষা সংস্কার, কারিগরি শিক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসিএ, মাদ্রাসা আধুনিকায়ন, নোবিপ্রবি, শিক্ষাব্যবস্থা, বাংলাদেশ শিক্ষা