Loading...

  • 27 Jul, 2026

মেট্রোরেলের নিচে ছাতার ভেতরে লুকানো ছিল আইইডি, বোতাম চাপলেই ঘটতে পারত বিস্ফোরণ

মেট্রোরেলের নিচে ছাতার ভেতরে লুকানো ছিল আইইডি, বোতাম চাপলেই ঘটতে পারত বিস্ফোরণ

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক বস্তুটি ছিল একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা পাইপ বোমা। এটি একটি ফোল্ডিং ছাতার ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কেউ ছাতাটি খুলতে গিয়ে বোতাম চাপলে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। সময়মতো ডিভাইসটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে শাপলা চত্বরের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে খবর দেন যে, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি জেনারেটরের পাশে পড়ে থাকা ফোল্ডিং ছাতার ভেতর থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। শোভাযাত্রা যাতে আতঙ্কিত না হয়, সেজন্য উপস্থিত জনসাধারণকে ‘শর্টসার্কিট’ হয়েছে বলে সতর্কতার সঙ্গে ওই স্থান এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়। শোভাযাত্রা নিরাপদে এলাকা অতিক্রম করার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিভাইসটি পরীক্ষা করে এবং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক ডিভাইসটি সেখানে রাখা হয়েছিল।

ঘটনাস্থল থেকে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি এবং বেয়ারিং বলসহ বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছেন। এসব আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডিভাইসটির প্রকৃতি ও এর নির্মাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথ যাত্রায় বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি পলাশীর মোড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়। পুলিশের ধারণা, মানুষের ব্যাপক সমাগমকে লক্ষ্য করেই ডিভাইসটি সেখানে রাখা হয়েছিল।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।