Loading...

  • 26 Jul, 2026

নিজের তৈরি বিমানে সফল উড্ডয়ন, স্বপ্নের আকাশ ছুঁলেন ফরিদপুরের তরুণ মারুফ

নিজের তৈরি বিমানে সফল উড্ডয়ন, স্বপ্নের আকাশ ছুঁলেন ফরিদপুরের তরুণ মারুফ

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা নেই, নেই প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রিও। আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসির পরই থেমে গেছে পড়াশোনা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এক আসনের ছোট একটি বিমান তৈরি করে সফলভাবে আকাশে উড়েছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার তরুণ মারুফ মোল্যা। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরচলা গ্রামের বাসিন্দা মারুফ মোল্যা টানা সাত মাসের পরিশ্রমে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিমানটি তৈরি করেন। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, নকশা তৈরি এবং নির্মাণকাজে তিনি ইউটিউবকে প্রধান সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পুরো বিমানটি নির্মাণে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে নিজের তৈরি বিমান নিয়ে আকাশে উড্ডয়ন করেন মারুফ। প্রথমবার খুব বেশি উচ্চতায় উঠতে না পারলেও সফলভাবে বিমানটি উড়াতে সক্ষম হওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করছেন তিনি। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন এই তরুণ উদ্ভাবক।

এটি অবশ্য মারুফের প্রথম আকাশযান নয়। এর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের প্যারাগ্লাইডিং করতে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেই একটি প্যারাগ্লাইডার তৈরি করেছিলেন। ইউটিউব দেখে মাত্র এক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই প্যারাগ্লাইডার দিয়েও তিনি সফলভাবে আকাশে উড়েছিলেন। এরপর মানিকগঞ্জের উদ্ভাবক জুলহাসের তৈরি বিমান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেই বিমান তৈরির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। বিমান তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথমদিকে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বারবার ব্যর্থ হন মারুফ। পরে মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ভাবক জুলহাসকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার কাছ থেকে কারিগরি পরামর্শ নেন। জুলহাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও ত্রুটি সংশোধনের পর অবশেষে সফলভাবে বিমানটি আকাশে ওড়াতে সক্ষম হন তিনি।

মারুফের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন। যারা একসময় তার উদ্যোগকে অবাস্তব বলে উপহাস করেছিলেন, তারাও এখন তার উদ্ভাবনী চিন্তা ও সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে মারুফ ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে মারুফ মোল্যা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ছিল তার। গত বছর নিজের তৈরি প্যারাগ্লাইডারে উড্ডয়নের পর এবার বিমানে উড়তে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। তিনি জানান, বিদেশ থেকে একটি প্যারাগ্লাইডার আনতে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও তিনি মাত্র এক লাখ টাকায় সেটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত, নিরাপদ ও আধুনিক বিমান তৈরি করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা কাদের শেখ ও ইলিয়াস বলেন, শুরুতে গ্রামের মানুষ মারুফের উদ্যোগকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সবাই তাকে নিয়ে গর্ব অনুভব করছেন। তাদের বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণ একদিন দেশের জন্য বড় অর্জন বয়ে আনতে পারবেন।

একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, মারুফের উদ্ভাবনী মেধা সত্যিই অসাধারণ। প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তিনি শুধু সদরপুর নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠতে পারেন।