Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর কুবি শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলের মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর কুবি শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্র ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলেছিল সে। এরপর আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন।

সন্তানের কোনো সন্ধান না পেয়ে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের ছবি ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে তার সন্ধানে সহযোগিতা চান মা ড. নাহিদা বেগম।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতীমের বলে শনাক্ত করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসানও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মরদেহ উদ্ধারের সময় অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার কারণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘোরাঘুরির একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করছে।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তৎপরতা চালানো হয়। পরিবার, স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে তার সন্ধানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিখোঁজের পরদিন তার মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার সময়কার গতিবিধি, তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল এবং কোথায় গিয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপ্রতীমের পরিবারের কাছে বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে, কারণ নিখোঁজ হওয়ার পর তারা তাকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় ছিলেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই অপ্রতীমের মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।