দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন একটি থানা এবং তিনটি উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য নিকারের ১২১তম সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা সভার নোটিশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ নামে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হালদা নদীকেন্দ্রিক বিস্তীর্ণ এলাকার প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও নিকার সভায় উঠছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
একই সভায় মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়েও আলোচনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবি হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও বিবেচনার জন্য সভায় উপস্থাপন করা হবে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার প্রশাসনিক সীমারেখা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্বাচল প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত অংশ ঢাকা জেলার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
সভায় আরও একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব উপস্থাপন করবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট এ প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, সচিব এবং নিকার সদস্যদের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন থানা ও উপজেলা গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।