সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার দুই ধাপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। আগে এটি তিন ধাপে কার্যকর করার আলোচনা থাকলেও কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবির পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, মূল বেতন (বেসিক) ধাপে ধাপে ভাগ করে কার্যকর করা হলে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসিক বেতন শতাংশের ভিত্তিতে ভাগ করে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণ করা হলে সরকারি সব দপ্তরে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময়, প্রশাসনিক ব্যয় এবং বাস্তবায়ন জটিলতা বাড়তে পারে। এ কারণে কর্মচারী নেতারা শুরুতেই শতভাগ বেসিক বেতন কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন হাতে পরিচালিত হলেও বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ইএফটি (EFT) ও আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়।
তার ভাষ্য, যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, তাহলে আইবাস সফটওয়্যারে নতুন কোড ও সেটআপ তৈরি করতে হবে। পরে অবশিষ্ট অংশ বাস্তবায়নের সময় আবারও পুরো সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে, যা দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল।
তিনি আরও বলেন, ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য দুইবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়বে এবং সময় ও জনবল উভয়ের অপচয় হবে।
আব্দুল মালেকের মতে, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিআরএল) শেষে চাকরি থেকে বিদায় নেওয়া কর্মচারীরা। কারণ, চাকরি শেষে তাদের সব আর্থিক সুবিধা এককালীন পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হলে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ ও পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাওনা ভাগ করে পরিশোধের সুযোগ নেই। এতে বৈষম্য ও প্রশাসনিক সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চাইলে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও কোনো জটিলতা ছাড়াই এককালীন তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাবেন।