Loading...

  • 26 Jul, 2026

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ১৭তম বারের মতো পিছালো তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: ১৭তম বারের মতো পিছালো তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১৭তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ানো হলো। আদালত নতুন করে আগামী ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করেছেন।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান। তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

ওসমান হাদি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পর রাজধানীর পল্টন এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ওসমান হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হয়।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করেন।

বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর থেকে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানোর কারণে মামলাটির বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। নিহতের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে আগামী ১৫ জুলাই নির্ধারিত তারিখে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, সে বিষয়েও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।