Loading...

  • 28 Jul, 2026

‘পালিয়ে যাব না’ বলে যিনি পালিয়েছেন, ‘আসি’ বললেও আর ফিরবেন না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

‘পালিয়ে যাব না’ বলে যিনি পালিয়েছেন, ‘আসি’ বললেও আর ফিরবেন না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে কড়া মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে ‘আসি আসি’ বললেও কখনও আসবে না।” তার অভিযোগ, দেশে ফিরে আসার বার্তা দিয়ে নেতাকর্মীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ডে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা বিদেশ থেকে ফিরে আসার বার্তা দিচ্ছেন, তারা নিজেরা না এসে দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামাচ্ছেন। এতে নেতাকর্মীরা গণপিটুনিসহ নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সমাবেশে তিনি শিক্ষামন্ত্রীরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, একদিকে সংসদে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষকদের বদলির মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় নিরীহ শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে তাদের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অতীতের নানা অভিযোগ এবং পারিবারিক দুর্নীতির বিষয়ে জনগণ অবগত। নিজের সন্তানকে বিদেশে পড়াশোনা করিয়ে অন্যদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তার সম্পদের পরিমাণ আগের তুলনায় ২৫ গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নিরপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের মতো দখলভিত্তিক রাজনীতির পথে হাঁটছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জনগণ সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। তবে নির্বাচন শেষে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সেই সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন তা দেয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের প্রশ্নে তারা বিএনপির সঙ্গে একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

আখতার হোসেন দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের এই মতামত উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। তাই জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ।

এর আগে চুয়াডাঙ্গায় পদযাত্রা শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা মেহেরপুরের গাংনীতে পৌঁছান। সমাবেশ শেষে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তারা কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।