Loading...

  • 28 Jul, 2026

পুলিশ পরিচয়ে ৪.২৬ লাখ টাকা ছিনতাই: মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা

পুলিশ পরিচয়ে ৪.২৬ লাখ টাকা ছিনতাই: মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশ পরিচয়ে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অর্থের মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মো. আকবর খান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট চরপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহিন আলী গত ২৪ জুলাই মাছবোঝাই ট্রাক নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মাছের আড়তে যান। মাছ বিক্রি শেষে তিনি ও তার সহকারী আনিছুর রহমান নগদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের হারুখালী এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের ট্রাক থামায়। ট্রাকে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা টাকার ব্যাগ নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হবে বলে জানায়।

এরপর সহকারী আনিছুর রহমানকে টাকার ব্যাগসহ মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শাহিন আলী রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কাউকে আনা হয়নি।

পরে আনিছুর রহমান একটি ভ্যানচালকের মোবাইল ফোন থেকে শাহিন আলীকে জানান, হারুখালী এলাকার একটি রেশম বাগানে নিয়ে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা দাশুড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ মূল অভিযুক্ত আকবর খানকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অর্থের মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।