Loading...

  • 26 Jul, 2026

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির, বিএনপিকেও কটাক্ষ আখতার হোসেনের

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির, বিএনপিকেও কটাক্ষ আখতার হোসেনের

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান ঠেকাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের আর কোনো সাংবিধানিক আইনি সুরক্ষা নেই।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে তিনি নীরব ছিলেন এবং কার্যত সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।

এনসিপির সদস্যসচিব আরও বলেন, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে এমন কিছু ঐতিহাসিক বিবরণ যুক্ত করেছেন, যা মূলত নিজের অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টা বলে মনে করেন তারা।

বিএনপির সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকার যোগ্য নন—এমন অবস্থান তারা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় বিএনপি তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ না নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত রাখার মাধ্যমে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, একই ব্রিফিংয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনকালীন সময়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রাখতে চাওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে এখন রাষ্ট্রপতি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার করার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে দলের নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ ও মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও দাবি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।