সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে তথ্য ও সত্য তুলে ধরা, কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক পক্ষের অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করা নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে কার্যকর সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স-এর একটি আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘দক্ষিণ এশিয়ার সংবাদমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির মুখোমুখি’ শীর্ষক আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ব এবং বর্তমান সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গবেষক ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ। তিনি মন্তব্য করেন, “সরকারের সমালোচনা করার মতো সাংবাদিকতার পরিবেশ ছাড়া সাংবাদিকতা কীভাবে চলতে পারে, তা আমার জানা নেই।”
সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের পার্থক্য তুলে ধরে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো যাচাই করা তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বা আন্দোলনের কর্মী হিসেবে কাজ করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই গণতান্ত্রিক সমাজকে শক্তিশালী করে। তাই সংবাদকর্মীদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকতার পরিধি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রবাহের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। তাই সাংবাদিকতারও কোনো সীমানা থাকতে পারে না। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে সংবাদ আদান-প্রদান আরও দ্রুত ও বিস্তৃত হয়েছে, যা গণমাধ্যমের দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে।