Loading...

  • 26 Jul, 2026

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে এটি দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর এবং তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকায় ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)-এর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। দিনব্যাপী উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে সমাবেশস্থল খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। সেই ঘটনার তদন্ত বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

দ্রষ্টব্য: এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।