শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, যে–ই আইন ভঙ্গ করে থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকার এ ঘটনাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করবে না।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শাপলা চত্বরে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি একটি বড় ধরনের বিপর্যয়। ওই সময় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা আইন লঙ্ঘন করে থাকে, তবে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আইন ভঙ্গের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হবে, তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই ঘটনায় মানুষকে নির্দিষ্টভাবে সেখানে আসতে উৎসাহিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তার ভাষায়, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই হবে এবং সরকার এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেখছে না।
উপদেষ্টা বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। তাই এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বাধা থাকার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় সরকারবিরোধী ব্যক্তিরাই স্নাইপার হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে—এমন একটি বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা তার মতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ছিল এবং বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের টাইপ-৫৬ রাইফেল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এসব তথ্য তদন্তে বিবেচনায় আনা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু করা যায় না। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, তার এই বক্তব্য বর্তমান বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং এটি একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। এ বিষয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা দূর করাই তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।