শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়। মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন আসামি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের ফলে মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা কেউ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে ওই রাতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান চালানোর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি বেনজীর আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক ৩০ আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার মামলাটির শুনানির সময় কয়েকজন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও ফারজানা রুপাসহ ১১ জনের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিনে আসামি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।
পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়ার সিদ্ধান্ত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত না থাকলেও তাদের পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের আইনজীবী নিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ট্রাইব্যুনালের নথি ও পরবর্তী শুনানিতে মামলার অভিযোগ, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ নিয়ে আরও বিস্তারিত কার্যক্রম হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
আগামী ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকায় ওই দিন মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের পর পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও মামলার পরবর্তী শুনানিতে কার্যকর হবে।