দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, কারসাজি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন নিশ্চিত এবং একটি টেকসই ও আধুনিক শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে ১৭ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর পক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের এক সংসদ সদস্য শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, অতীতের শেয়ারবাজার ধসের কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো কাজ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে বাজার কারসাজি, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, কর্পোরেট সুশাসনের অভাব, আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সীমিত অংশগ্রহণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, নীতিগত অসঙ্গতি এবং পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়গুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিকে বাজারে আনা, বাজার কারসাজির তথ্যদাতাদের সুরক্ষা, নিরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার।
এছাড়া পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নজরদারি, অনলাইনে বিও হিসাব খোলা, বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, বিশেষ পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সুবিধা এবং বিনিয়োগকারীদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই ১৭ দফা সংস্কার পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অনিয়ম প্রতিরোধ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা।