Loading...

  • 26 Jul, 2026

‘শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে ছেলেকে হত্যা’, সাবেক পাসপোর্ট এডিজির পরিবারের অভিযোগে হত্যা মামলা

‘শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে ছেলেকে হত্যা’, সাবেক পাসপোর্ট এডিজির পরিবারের অভিযোগে হত্যা মামলা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) রফিকুল ইসলাম ভূঞার ছেলে আল মোকাববর অর্নব ইসলামের (৩২) রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। নিহতের মা হালিমা খাতুন অভিযোগ করেছেন, শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার একমাত্র ছেলে অর্নবকে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগে অর্নবের চাচা ওসমান গনি ভূঞা, তার স্ত্রীসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ধানমন্ডি থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২ মে ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের ১৩ তলার ছাদ থেকে পড়ে অর্নবের মৃত্যু হয়। প্রথমে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম ভূঞার মৃত্যুর পর বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। অর্নব তার বাবার সম্পত্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করতেন এবং সম্প্রতি সেগুনবাগিচার একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে চাচার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, জমি ও সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে মতবিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্নবের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ডিজিটাল তথ্য, ইমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তার মোবাইলে আসা সর্বশেষ কল, সম্পত্তি সংক্রান্ত যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিআইডির সাইবার টিম সম্ভাব্য হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওসমান গনি ভূঞা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অর্নবকে হত্যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।