Loading...

  • 26 Jul, 2026

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের স্বার্থেই বাস্তবায়ন হবে, অন্য দেশের উদ্বেগের সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের স্বার্থেই বাস্তবায়ন হবে, অন্য দেশের উদ্বেগের সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্য কোনো দেশের উদ্বেগ বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রভাবিত করে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় নদী শাসন, ড্রেজিং, পানি সংরক্ষণ এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নদী ব্যবস্থাপনা ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে চীনের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রকল্পটি ঘিরে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামো প্রকল্প নির্ধারণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের আপত্তির যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে তা কূটনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হবে, তবে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।”

বিগত সরকারের নীতির সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি থেকে সরে আসছে। বরং সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তিস্তা ও গঙ্গাসহ দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নদী শাসন, পানি সংরক্ষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। সরকারের লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।