Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

উদ্যোক্তা ও গবেষকদের এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

উদ্যোক্তা ও গবেষকদের এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

 

দেশের উদ্যোক্তা ও গবেষকদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবন এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তরুণ উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু প্রচলিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মেধাবী তরুণ নিজেদের উদ্যোগ ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। কিন্তু অর্থের অভাব, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারি সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই হবে না; তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা তৈরিতেও সহযোগিতা করতে হবে। একইভাবে গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।

গবেষণার ফলাফল যেন কেবল গবেষণাগার বা একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োগ করা গেলে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দ্রুত অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, তথ্যপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মতো খাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এসব ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের সহজ শর্তে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মধ্যে অনেকেই চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে পারলে একদিকে যেমন নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে উঠবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের বাস্তব সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো, পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করা গেলে তার সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও উদ্যোক্তা খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে নতুন উদ্ভাবন দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে দেশের উদ্ভাবনী অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হচ্ছে মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতা। তাই মেধাবী তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করতে হবে। উদ্যোক্তা ও গবেষকদের নতুন চিন্তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের স্বার্থে তাদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে মেধা, জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।