Loading...

  • 26 Jul, 2026

ভারত-চীনের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য গড়তে চায় বাংলাদেশ

ভারত-চীনের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য গড়তে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নতুন সরকার একদিকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চীনের বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে দেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকনির্দেশনার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক রীতিতে নতুন সরকারপ্রধানদের প্রথম বিদেশ সফর সাধারণত ভারত হলেও, তারেক রহমানের চীন সফরকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সফরে মোংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সময়ে ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। সীমান্ত বাণিজ্য সচল হওয়া, বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু, কলকাতা-ঢাকা ও ঢাকা-আগরতলা বাস চলাচল আংশিকভাবে শুরু এবং জ্বালানি সহযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতিতে এগোচ্ছে।

তবে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে বিএসএফের কথিত ‘পুশ-ইন’ কার্যক্রম এবং তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় পারস্পরিক আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল কৌশলগত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে ভারতকে এ প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং বড় ঋণদাতা দেশ। অন্যদিকে ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগের কারণে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুসহ কিছু রাজনৈতিক প্রশ্ন এখনো দুই দেশের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি করলেও উভয় দেশই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় একে অপরকে উপেক্ষা করতে পারবে না। ফলে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই আগামী দিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।