Loading...

  • 26 Jul, 2026

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স সম্ভব নয়’, সংসদে বিএনপি এমপি জিএম সিরাজের মন্তব্য

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স সম্ভব নয়’, সংসদে বিএনপি এমপি জিএম সিরাজের মন্তব্য

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রতিবেশীসুলভ, সম্মানজনক ও দীর্ঘস্থায়ী রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ব্যক্তি জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, কিন্তু দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা বাস্তবসম্মত নয়। ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই প্রয়োজনীয়।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, জনগণের মনোভাব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

জিএম সিরাজ বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের জনগণ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা যেন দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে উভয় দেশেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ সম্ভব নয়। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী, বাংলাদেশও ভারতের প্রতিবেশী। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই সম্পর্কের মধ্যে সম্মান, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।”

সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে সম্প্রতি বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করা ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নতুন হাইকমিশনার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক ও কাব্যিক ভাষায় মন্তব্য করেছেন। একই আকাশ ও বাতাসের নিচে বসবাসকারী দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেছেন। তবে সেই বক্তব্যের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী নানা আলোচনা ও বিতর্ক দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন জিএম সিরাজ।

তার মতে, এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে, যেগুলো সমাধান করা জরুরি। তিনি বলেন, জনগণের হৃদয়ে আস্থা ও বন্ধুত্বের জায়গা তৈরি করতে হলে উভয় দেশকেই পারস্পরিক সংবেদনশীল বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বা ‘পুশ-ব্যাক’ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তিনি ভারতের সরকারের প্রতি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান।

জিএম সিরাজ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সরকারে-সরকারে সম্পর্কের চেয়ে জনগণের হৃদয়ের সম্পর্ক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

একই সঙ্গে তিনি সীমান্তপথে মাদক পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংসদে তিনি বলেন, মাদক বর্তমানে দেশের জন্য একটি বড় সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর কারণে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে সীমান্ত এলাকায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে জিএম সিরাজের বক্তব্যে একদিকে যেমন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে সীমান্ত ও মাদকসহ কিছু সংবেদনশীল ইস্যু নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে তার বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও জনগণের যোগাযোগের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সংসদে দেওয়া জিএম সিরাজের বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

**ট্যাগ:**
জিএম সিরাজ, বিএনপি, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক, জাতীয় সংসদ, বাজেট অধিবেশন, ভারত, কূটনীতি, পুশ ইন, সীমান্ত সমস্যা, ভারতীয় হাইকমিশনার, বাংলাদেশ রাজনীতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, মাদক পাচার, সংসদ বক্তব্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা