Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

১৬ হাজার কোটি টাকায় ১৫ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

১৬ হাজার কোটি টাকায় ১৫ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

দেশের জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ জন্য মোট ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব অর্থায়নে বহন করবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জি টু জি চুক্তির আওতায় থাইল্যান্ডের ওকিউটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং ভারতের আইওসিএল—এই ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করবে বিপিসি।

অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মধ্যে রয়েছে ৯ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল, ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-ওয়ান, ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১ লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন-৯৫ (আনলোডেড) এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন মেরিন ফুয়েল

সরকার গ্যাস অয়েলের জন্য প্রতি ব্যারেলে ৯.৫০ মার্কিন ডলার, জেট এ-ওয়ানের জন্য ১০.১৫ মার্কিন ডলার এবং গ্যাসোলিন-৯৫-এর জন্য ৮.৪৯ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের জন্য প্রতি মেট্রিক টনে ৬৬ মার্কিন ডলার এবং মেরিন ফুয়েলের জন্য প্রতি মেট্রিক টনে ৮৫ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একই ধরনের জি টু জি চুক্তির আওতায় ১২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছিল। আগামী ছয় মাসের সম্ভাব্য চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন এই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যে আগাম আমদানির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।