বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কোম্পানির কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, মেটলাইফ, বোয়িং এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোম্পানি রয়েছে।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
গত ১১ আগস্ট ইউএসবিবিসির প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। তিন দিনের সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ এবং বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এতে অংশ নিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রাখে।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ ও কারিগরি জ্ঞান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বর্তমানে উৎসাহব্যঞ্জক। এ ধরনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে পারে। ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউএসবিবিসির এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো দ্রুত বিকাশমান খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।