Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসই করতে আগামী ১০ বছরের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

শনিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। সেই পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বর্তমানে এ খাতে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে খাতটিকে নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা চান পণ্য সহজে বন্দরে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নির্বিঘ্নে দেশে আনা সম্ভব হোক। শিল্পকারখানা উৎপাদন চালু রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেখানে কয়েক শ শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানা চালু হলে চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ার মাধ্যমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষক কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীরাই নয়, বাঁশখালীর লবণচাষিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে। লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিয়েও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি দেশের স্বার্থে বিভ্রান্তি ও গুজব এড়িয়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।