বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পরও হতাশায় ডুবে নেই ব্রাজিল শিবির। বরং এই ব্যর্থতার মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি বলেন, এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং ব্রাজিল ফুটবলের জন্য একটি নতুন অধ্যায় বা ‘নতুন চক্রের শুরু’। তার মতে, বর্তমান দলের সামর্থ্য ও পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা দিচ্ছে এবং এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস। যদিও পুরো ম্যাচে ব্রাজিল আক্রমণে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদায়ের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিল সেলেসাওরা, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ফলাফল অবশ্যই হতাশাজনক, তবে তিনি মনে করেন না ব্রাজিল খারাপ বিশ্বকাপ খেলেছে। তার ভাষায়, দলটি প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে এবং নরওয়ের বিপক্ষেও জয় পাওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেছিল। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ইতালিয়ান কোচ জানান, তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসবেন না। বরং তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে নতুন দল গড়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ শিরোপাহীন ব্রাজিল এবারও ব্যর্থ হলেও আনচেলত্তির বিশ্বাস, বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য রয়েছে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরার। তার মতে, জয়-পরাজয় ফুটবলেরই অংশ এবং এই পরাজয়ের কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করেই ব্রাজিলকে নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।