Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে সমন্বিত নীতিমালা

ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে সমন্বিত নীতিমালা

দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ও শহরাঞ্চলে এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যানজট, সড়ক নিরাপত্তা, চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, রুট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা মানুষের স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহরের অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কের সংযোগকারী রাস্তাগুলোতে এসব যান ব্যাপকভাবে চলাচল করছে। তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের কাছে ব্যাটারিচালিত রিকশার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স না থাকা, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি যানবাহনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ব্রেকিং ব্যবস্থা, লাইট, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সংযোগের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন সমন্বিত নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ, যানবাহনের কারিগরি মান, চলাচলের রুট, গতি নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং এবং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে এসব যানবাহন কোন সড়কে চলতে পারবে এবং কোন সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকবে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবস্থাপনায় ভিন্নতা থাকায় একটি অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হতে পারে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িত চালক ও মালিকদের জীবিকার বিষয়টিও নীতিমালা তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে। হঠাৎ করে এসব যান নিষিদ্ধ না করে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে যাত্রীসেবা এবং চালকদের কর্মসংস্থান—দুই বিষয়ই সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য কার্যকর নীতিমালা হলে একদিকে যেমন সড়কে শৃঙ্খলা বাড়ানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিরাপদ গণপরিবহনের একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেও এসব যানকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না; নিবন্ধন, নিয়মিত পরিদর্শন, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং আইন প্রয়োগে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যবহৃত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা এবং ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বা নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলোও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যানবাহনের মান নির্ধারণ করা গেলে এ খাতকে আরও টেকসই করা সম্ভব হবে।

সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা, চলাচল, চালকদের যোগ্যতা এবং যানবাহনের নিরাপত্তা সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি হতে পারে। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাটারিচালিত যান খাতকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হবে।