Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

দায়িত্বে দক্ষতার ছাপ, আরও বড় ভূমিকায় আলোচনায় আসাদুল হাবিব দুলু

দায়িত্বে দক্ষতার ছাপ, আরও বড় ভূমিকায় আলোচনায় আসাদুল হাবিব দুলু

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনে সক্রিয়তার কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম, পুনর্বাসন এবং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর সক্রিয়তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুলুর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছেন মন্ত্রী। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তিস্তা এখন বড় পরীক্ষা

আসাদুল হাবিব দুলুর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তিস্তা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন, বন্যা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে তিস্তা নদীর সম্পর্ক সরাসরি। ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট দুলু জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা শেষ করে আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ এবং নদী অববাহিকার সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।

তবে তিস্তা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসা এবং একটি বৃহৎ ও জটিল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্পের অর্থায়ন, কারিগরি পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো এর সঙ্গে যুক্ত। ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি আগামী দিনে দুলুর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হয়ে উঠতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের প্রত্যাশা

লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দুলুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। তিস্তা, বন্যা, নদীভাঙন, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোতে তাঁর সক্রিয় অবস্থান তাঁকে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

বর্তমানে তিনি এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, যার সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তাঁর কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি।

তবে রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং বাস্তব অর্জনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দুলুর রাজনৈতিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে দৃশ্যমান ফলাফল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি—এসব ক্ষেত্রেই তাঁর কার্যকারিতা পরিমাপ করা হবে।

আরও বড় দায়িত্বের আলোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সেই আলোচনায় আসাদুল হাবিব দুলুর নামও উঠে আসছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সরকারের দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ভবিষ্যতে তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক অনুসারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে।

তবে এ ধরনের আলোচনা এখনো রাজনৈতিক পর্যায়ের। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটিকে সম্ভাবনার আলোচনাই হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আসাদুল হাবিব দুলুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বড় কোনো পদ পাওয়া নয়, বরং বর্তমান দায়িত্বে কাজের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে, আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁকে সেই অভিজ্ঞতা বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি জোরদার এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দায়িত্ব ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্যই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখে। দুলু বর্তমান দায়িত্বে কতটা কার্যকর ফলাফল দেখাতে পারেন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন—তার ওপরই জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী অবস্থান অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।