দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে তিনি কাতারের উদ্দেশে রওনা হন। সফর শেষে আগামী ১৯ আগস্ট রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলও এ সফরে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহির।
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুররাহমান বিন জসিম আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি নিয়ে সহযোগিতা রয়েছে। ফলে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতিতে কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশে কাতারের বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য কাতারের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও মতবিনিময় হতে পারে।
প্রতিনিধিদলে অর্থনীতি, পরিকল্পনা, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি এবারের সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।
কাতারে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, কর্মসংস্থান, নিরাপদ অভিবাসন এবং তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও সফরের আলোচনায় স্থান পেতে পারে। প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কাতার সরকারের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-কাতার সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল ১৯ আগস্ট রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দুই দিনের এই সরকারি সফরের বৈঠক ও আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।