Loading...

  • 26 Jul, 2026

গোলশূন্য ড্রয়ে গ্রুপসেরা কলম্বিয়া, রানারআপ হয়ে নকআউটে পর্তুগাল

গোলশূন্য ড্রয়ে গ্রুপসেরা কলম্বিয়া, রানারআপ হয়ে নকআউটে পর্তুগাল

গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রুপসেরা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও কলম্বিয়া। দুই দলের লড়াইয়ে ছিল উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচটি ০-০ গোলের সমতায় শেষ হয়।

এই ড্রয়ের ফলে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে, এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানারআপ হিসেবে শেষ ষোলোতে উঠেছে পর্তুগাল।

গ্রুপের অপর দল কঙ্গোও ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে ‘কে’ গ্রুপ থেকে কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও কঙ্গো—এই তিন দলই নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বলের দখল ও আক্রমণ তৈরিতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। প্রথমার্ধে কলম্বিয়া বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও পর্তুগালের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক দিওগো কোস্তা দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখান।

ম্যাচের ২৫তম মিনিটে কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড কর্দোবা গোলের দারুণ একটি সুযোগ পান। তার শক্তিশালী ও লক্ষ্যভেদী শট অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন দিওগো কোস্তা। ওই মুহূর্তে গোলটি হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।

এর পাঁচ মিনিট পর কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ম্যাচ রেফারি। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তিনি পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান, যা মাঠে ও গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, পর্তুগালও বসে থাকেনি। অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং জোয়াও ফেলিক্সের নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে একাধিক আক্রমণ সাজায় ইউরোপের দলটি। তাদের দ্রুতগতির পাসিং এবং আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা কলম্বিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পর্তুগাল একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তুললেও কলম্বিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডাভিনসন সানচেজ গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করে বিপদমুক্ত করেন দলকে। ফলে বিরতিতে দুই দলই গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতি কমেনি। দুই দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া চেষ্টা চালায়। তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকদের সতর্কতায় কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে কলম্বিয়ার হয়ে বল জালে পাঠান ইওয়ান উইসা। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কলম্বিয়ার শিবির। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। ফলে ম্যাচে আর কোনো নাটকীয়তা যোগ হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হয়। এই ফলাফলে কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবং পর্তুগাল রানারআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। এখন দুই দলই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডের প্রস্তুতি শুরু করবে।