Loading...

  • 27 Jul, 2026

জার্মানিতে তাপপ্রবাহের মধ্যে পানিতে ডুবে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু

জার্মানিতে তাপপ্রবাহের মধ্যে পানিতে ডুবে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জার্মানির বিভিন্ন নদী, হ্রদ ও জলাশয়ে গোসল কিংবা সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।

জার্মানির লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে অন্তত ২৬ জন পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পৃথক সাতটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ এবং কয়েকজন কিশোরও রয়েছেন।

তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই ডিএলআরজি জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, অতিরিক্ত গরমের সময় নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তবে সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে নামছেন।

নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের আইক্সার হ্রদ থেকে রোববার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার এখৎস হ্রদ থেকে ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কয়েক দিন আগে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

ডিএলআরজি জানিয়েছে, তাদের পরিসংখ্যানে কেবল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন এলবে নদীর এক সাঁতারু, স্যাক্সনির পোহল জলাধারের এক ব্যক্তি এবং বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি খনির হ্রদে তলিয়ে যাওয়া ২৮ বছর বয়সী এক যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক কয়েকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর হঠাৎ তলিয়ে যান। তার বন্ধুরা উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরে ডুবুরি দলও তাকে খুঁজে পায়নি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার।

এ ছাড়া নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার নেফেল হ্রদে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদে ২১ বছর বয়সী এক সাঁতারু, ডুবে যাওয়া একটি রাবার বোটের আরোহী এবং বাল্টিক সাগরে দূরপাল্লার এক সাঁতারুও নিখোঁজ রয়েছেন।

ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেছেন, তাপপ্রবাহের সময় বিশেষ করে অনেক পুরুষ নিজেদের শারীরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেন এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেন। এর ফলেই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে জার্মানির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলে তাপপ্রবাহকে ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের আরও কঠিন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার ভাষায়, তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়; এটি ক্রমেই বেশি ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের অনেক দেশ এখনো চরম তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি তাপপ্রবাহজনিত প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।