Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

খেলাধুলার মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে: শিক্ষামন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে: শিক্ষামন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দলগত চেতনা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা নয়, মাঠের খেলাধুলাও একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরিতে খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবই পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না। তাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাও বাড়াতে হয়। খেলাধুলা এসব গুণ অর্জনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

তিনি বলেন, মাঠে খেলতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে চলা, প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতাও খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ জীবনে একজন মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি করতে হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, মাঠের সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষিত কোচের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করার কারণে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা শুধু নেতৃত্ব বিকাশ নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মূল্য শেখায়। একটি দলকে জয়ী করতে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয়। একই সঙ্গে অন্যের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে হয়। এই দলগত মানসিকতা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে থেকে নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং সংকটের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া, অন্যের কথা শোনা, দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে ভুল স্বীকার করার সক্ষমতাও নেতৃত্বের অংশ। খেলাধুলার মাঠে এসব দক্ষতা বাস্তব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ থাকে। তাই নেতৃত্ব বিকাশের জন্য ক্রীড়া কার্যক্রমকে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ তৈরি করা গেলে তাদের মধ্যেও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ বাড়বে। খেলাধুলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়লে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনেও নতুন প্রতিভা উঠে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেক প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু সুযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে তাদের অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে আসতে পারেন না। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম জোরদার করা হলে এসব শিক্ষার্থীকে সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা বহুমাত্রিক। খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং চাপ মোকাবিলার দক্ষতা বাড়ায়। একটি প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার জন্য যেমন পরিকল্পনা প্রয়োজন, তেমনি পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তিও তৈরি হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের একজন ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। খেলাধুলা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের নেতৃত্বকে শুধু রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নেতৃত্ব হিসেবে দেখলে হবে না। ব্যবসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সামাজিক উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত কাজের অভিজ্ঞতা তরুণদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

সব মিলিয়ে খেলাধুলাকে শিক্ষার পরিপূরক নয়, বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, মাঠে খেলতে গিয়ে যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামো ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে খেলাধুলার মাধ্যমেই আগামী দিনের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব হবে।