Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

কর্তৃত্ববাদী শাসক না হওয়ায় মুজিব থাকলেও জিয়ার ভূমিকা নেই: জামায়াত আমির

কর্তৃত্ববাদী শাসক না হওয়ায় মুজিব থাকলেও জিয়ার ভূমিকা নেই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত জিয়াউর রহমানের ভূমিকা উল্লেখ না থাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এসব শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী বা স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ কারণে তার ভাষণ বা রাজনৈতিক ভূমিকা প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি। তার ভাষ্য, প্রদর্শনীতে যাদের কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, মূলত তাদেরই বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের মুক্তি ও ন্যায্যতার জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদানও প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশে তুলে ধরা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা

জামায়াত আমির জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, বিভিন্ন সময়ে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং এসব আন্দোলনে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে। এসব আন্দোলনে অনেকে নিহত, আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। অনেকে কারাবরণ করেছেন এবং বিভিন্ন মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বড় আন্দোলন গড়ে ওঠে।

জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। পরদিন ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, ৩ আগস্টের পরিস্থিতির সময় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের একটি অংশ জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। ৩ ও ৪ আগস্ট ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গুমের ঘটনাও ঘটানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’

প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো সরকারের সাফল্য তুলে ধরার আয়োজন নয়। বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রাম, নিপীড়নের ইতিহাস এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা মানুষের সামনে তুলে ধরাই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার দিনই প্রকৃত অর্থে জুলাই আন্দোলনের সমাপ্তি হবে।

রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্ব

দেশের রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।

বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।