বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আবেগঘন এক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রায় দুই দশক আগে যে শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা Lionel Messi, সেই শিশুই আজ স্পেনের জার্সিতে দাঁড়াবেন তার প্রতিপক্ষ হিসেবে। তিনি আর কেউ নন, ফুটবল দুনিয়ার নতুন বিস্ময় Lamine Yamal।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে মেসির দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্পেনকে ফাইনালে তুলেছেন তরুণ তারকা ইয়ামাল।
এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে। কাতালান সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ত ও ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী মেসি। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় পরিবারের শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা সেই ফটোসেশনে ভাগ্যক্রমে কয়েক মাস বয়সী ইয়ামালকে মেসির কোলে তুলে দেওয়া হয়। ফটোশুটের সময় শিশুটিকে কোলে নেওয়া ও গোসল করানোর কয়েকটি ছবি তোলা হয়েছিল।
বছরের পর বছর ছবিগুলো অপ্রকাশিত থাকলেও ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তখনই ফুটবলপ্রেমীরা আবিষ্কার করেন—মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই আজকের লামিন ইয়ামাল।
এরপর থেকে ইয়ামাল নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। অল্প বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও পরিণত ফুটবলবোধ ইতোমধ্যেই তাকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও মেসি দেখিয়ে চলেছেন কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।
এবার বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্ম। একদিকে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর মেসি, অন্যদিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় তরুণ ইয়ামাল।
ফুটবল ইতিহাসে এমন আবেগঘন অধ্যায় খুব কমই দেখা গেছে। প্রায় ১৯ বছর আগে যে ছবি ছিল নিছক একটি দাতব্য আয়োজনের স্মৃতি, সেটিই আজ বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখন অপেক্ষা শুধু শেষ বাঁশির—ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কার হাতেই বা তুলে দেয় বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।