Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’: শিক্ষামন্ত্রী

‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’: শিক্ষামন্ত্রী

‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে তো আর নম্বর দেওয়া যায় না’—চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষকদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়। তাই শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আবেগ বা ব্যক্তিগত বিবেচনার সুযোগ নেই।

এবারের ফলাফল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফলকে তিনি সুন্দর ফলাফল হিসেবে দেখছেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা খারাপ রেজাল্ট বলছেন কেন, রেজাল্ট তো সুন্দর হয়েছে।’

এদিকে ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে যারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের উত্তরপত্র সম্পূর্ণভাবে পুনঃপরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ফলে কোনো শিক্ষার্থী মনে করলে তার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবারের ফলাফল অর্জনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইতিবাচক সম্পর্ক, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের প্রবেশপথে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের কর্মশালার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মানসম্মত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের ৩০০টি করে উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য শেড নির্মাণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।