Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের করের অর্থ যেন অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নজর দিতে হবে। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি খাতে প্রয়োজনীয়তা, কার্যকারিতা ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব খাতে ব্যয় কমানো সম্ভব এবং যেগুলো জনগণের মৌলিক সেবা বা উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে না, সেসব ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় খাতে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও জনসেবার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচিতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, সময়ক্ষেপণ কিংবা অর্থের অপচয় হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়ের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অন্যান্য মৌলিক সেবায় ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে। একই কাজের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দক্ষতা বাড়বে।

অর্থনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর জোর দিচ্ছে। যেসব খাত জাতীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ ও বিলাসী ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যয় কমালেই হবে না, কমানো অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের স্বার্থ থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করে সেগুলো জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা গেলে অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই বর্তমান ব্যয় ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সেই অর্থ জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা গেলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকারিতা আরও বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই সরকারি অর্থ ব্যবহারে মিতব্যয়িতা, জবাবদিহি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।