Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে দুই দেশের সাবেক ফুটবল প্রধানকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা

অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে দুই দেশের সাবেক ফুটবল প্রধানকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা

 

ফুটবলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই দেশের সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ করে জরিমানাও করা হয়েছে। ফিফার এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ে সংস্থাটির কঠোর অবস্থানের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিল। ফিফার নৈতিকতা সংক্রান্ত তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ফুটবলের তহবিল ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ভিনসেন্ট ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ধারাবাহিক স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফা ও মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন আচরণের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সব ধরনের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ক্যাসেলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালে ক্যারিবীয় ফুটবল অঞ্চলের একটি বহুল আলোচিত নির্বাচনী কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছিল। সে সময় কাতারের মোহাম্মদ বিন হামামের ফিফা সভাপতি নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ক্যারিবীয় ফুটবল কর্মকর্তাকে নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের আওতায় এসেছিল। ওই ঘটনার পরও ক্যাসেল দীর্ঘ সময় মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ছিলেন।

অন্যদিকে মালদ্বীপের সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও গুরুতর আর্থিক অনিয়মকে ঘিরে। ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহারের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফুটবল খাতকে সংকট থেকে রক্ষা করতে ফিফা বিভিন্ন সদস্য দেশ ও ফেডারেশনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। সেই তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগই জালিলের বিরুদ্ধে তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জালিল ফিফার অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় দেশটির আদালতেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফিফার তদন্তে অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শুধু দুই সাবেক সভাপতিই শাস্তির আওতায় আসেননি। মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ ও প্রশাসন পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ফিফার তহবিলের অপব্যবহার সহজতর করা, অনিয়ম গোপন করা, জাল নথি ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে এক লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

মন্টসেরাটের ক্ষেত্রেও আরও একজন কর্মকর্তা শাস্তি পেয়েছেন। ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানডিকা হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ফেডারেশন ও ফিফার সম্পদ নিয়ে অনিয়মিত লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া এবং এসব কর্মকাণ্ড সহজতর করার অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দেড় লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।

ফিফার সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ফুটবল প্রশাসনে অর্থ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন, ত্রাণ ও অন্যান্য কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন বার্তাই দিয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা।

ফুটবল ফেডারেশনগুলোর নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্যও এ সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিফার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশ ও ফেডারেশনে যায়। এসব অর্থ নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিশ্ব ফুটবলে দুর্নীতি, স্বার্থের সংঘাত এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিফা নৈতিকতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি কঠোর অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। দুই সাবেক সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিফার এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ফুটবল প্রশাসনেও নতুন করে জবাবদিহির চাপ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ফিফার অর্থ ও উন্নয়ন তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি এবং হিসাব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।