রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দেওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা তদন্ত করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে উত্তরা এলাকায় ঘটে যাওয়া সোয়া কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানান। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা এলাকায় র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ডিএল পেট্রোল পাম্পের ওই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা প্রথমে গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে থামিয়ে দেয়। এরপর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা বহনকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে উত্তরা থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া অর্থ ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে তাসীন আক্তার হক যুক্ত রয়েছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বোন এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির অর্থ পরদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো।
তবে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের বিক্রির টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। এ কারণে রোববার অন্যান্য দিনের তুলনায় তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যাংকে নেওয়া হয়। ছিনতাইয়ের দিনও এভাবেই আগের দুই দিনের অর্থসহ বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ছিনতাইকারীদের গতিবিধি এবং ঘটনার সময় আশপাশের এলাকার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে ছিনতাইকারীরা আগে থেকে টাকা বহনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানত কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। তবে ডিবি বলছে, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ছিনতাইয়ের পেছনে কারা জড়িত এবং তারা কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের তথ্য পেয়েছিল, তদন্ত শেষ হলে এসব বিষয়ও স্পষ্ট হতে পারে।
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় এত বিপুল পরিমাণ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকে বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখন ডিবির তদন্তে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্যাগ: