Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোটগ্রহণ দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে পুরো ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ বৈঠকে ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদের সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সদস্যদের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোট গণনার পর সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিজের ভোট দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। ফলে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারও তাঁর রয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় তিনি নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর টানা কয়েকটি নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট গণনা করা হবে এবং সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। ফলে নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর নির্ধারিত মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত আসনে বসে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করছেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা ও ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় এ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সরাসরি রয়েছে। এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।